April 17, 2026, 9:32 am

চন্দ্রনাথ পাহাড়ে মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গ: ইসলাম কী বলে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : রবিবার, আগস্ট ১৭, ২০২৫,
  • 285 Time View
Spread the love

✍️ এডভোকেট মোঃ সারোয়ার হোসাইন লাভলু

অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর, চট্টগ্রাম

 

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের বাস্তবতা

সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি প্রাচীন তীর্থস্থান। এখানে প্রতিবছর অগণিত হিন্দু ভক্ত পূজা-অর্চনার উদ্দেশ্যে আসেন। এটি কোনো পর্যটন স্পট নয়, বরং হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের কেন্দ্র। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে দাবি তুলেছেন যে এই তীর্থস্থানের পাশে বা চূড়ায় মসজিদ নির্মাণ করা হবে। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ইসলামে মুসলমানদের জন্য বাধ্যবাধকতা কোথায়?

ইসলামে কোথাও বলা হয়নি যে কোনো মুসলমানকে হিন্দুদের তীর্থস্থানে যেতে হবে, কিংবা পাহাড়ে উঠে ইবাদত করতে হবে।

মুসলমানদের জন্য ফরজ করা হয়েছে—

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা, যা মসজিদে জামায়াতের সাথে হলে সর্বোত্তম।

আল্লাহর আনুগত্যে জীবন পরিচালনা করা।

অন্যদিকে, পর্বত আহরণ, পাহাড়ে ভ্রমণ বা হিন্দুদের তীর্থস্থানে গিয়ে সেলফি তোলা কোনো ইবাদত নয়। ইসলাম কখনো মুসলমানদের অন্য ধর্মাবলম্বীদের তীর্থযাত্রা অনুকরণ করতে বা সেখানে উপাসনা করতে নির্দেশ দেয়নি।

আল্লাহ বলেন—

“এবং আমি মানুষ ও জ্বিনকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।”

(সূরা আয-যারিয়াত, ৫৬)

এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—ইবাদতের স্থান হচ্ছে মসজিদ, অন্যের উপাসনালয় নয়।

 

অন্যের উপাসনালয়কে সম্মান করার নির্দেশ

কুরআনে আল্লাহ বলেন—

“তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের তারা ডাকে তাদের গালি দিও না, ফলে তারা শত্রুতাবশত জ্ঞানের অভাবে আল্লাহকে গালি দেবে।”

(সূরা আনআম, আয়াত ১০৮)

এই আয়াত প্রমাণ করে, মুসলমানদের অন্য ধর্মের উপাসনালয় বা পূজা-পার্বণকে হেয় করা বা আঘাত করা নিষিদ্ধ।

রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জীবনে আমরা দেখি—তিনি মদিনার ইহুদি ও খ্রিস্টানদের উপাসনালয় ধ্বংস করেননি, বরং তাদের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা হলো সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্মান।

 

মসজিদ নির্মাণের নামে উসকানি: ইসলামের দৃষ্টিতে

যারা হিন্দুদের তীর্থস্থানে জোরপূর্বক মসজিদ নির্মাণের দাবি তুলছে, তারা প্রকৃতপক্ষে ইসলামের শিক্ষা লঙ্ঘন করছে।

 

১. ইসলামে জোরপূর্বক দখল নিষিদ্ধ:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“যে ব্যক্তি অন্যের এক বিঘা জমি জোরপূর্বক দখল করবে, কিয়ামতের দিন তার গলায় সাত স্তরের জমি বেঁধে দেওয়া হবে।”

(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

২. মুসলমানদের করণীয় হলো মসজিদে গিয়ে ইবাদত করা, অন্যের ধর্মীয় উপাসনালয়ে হস্তক্ষেপ করা নয়।

৩. যারা এই ধরনের উসকানিমূলক কাজ করছে, তারা মুসলমানদের অজ্ঞতা ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করতে চায়। ইসলাম দাঙ্গা-ফ্যাসাদকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে।

আল্লাহ বলেন—

“ফিতনা হত্যার চেয়েও বড় অপরাধ।”

(সূরা বাকারা, আয়াত ১৯১)

 

চন্দ্রনাথ পাহাড় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান। এটি পর্যটন স্পট নয় এবং মুসলমানদের জন্য এখানে গিয়ে পর্বত আরোহন বা মসজিদ নির্মাণের কোনো ফরজ বা সুন্নত বিধান নেই। বরং এমন উদ্যোগ ইসলাম বিরোধী, কুরআন-হাদীস পরিপন্থী এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য মারাত্মক হুমকি।

 

তাই, যারা ইসলামকে বিতর্কিত করে হিন্দুদের জায়গায় জোরপূর্বক মসজিদ নির্মাণের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন, তাদেরকে কুরআন-হাদীসের আলোকে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দেওয়া হল। এ ধরনের কাজ ইসলাম সমর্থন করে না। এতে মুসলমানরা পাপী হবে এবং কিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে। এই উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা প্রতিটি শান্তিপ্রিয় নাগরিকের দায়িত্ব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Translate »
%d bloggers like this: