April 22, 2026, 6:36 pm

ভালো কাজের প্রতিযোগিতাই হোক রাজনীতি। 

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬,
  • 18 Time View
Spread the love

 

 

রাজনীতি মানবসমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও জনগণের কল্যাণ অনেকাংশেই নির্ভর করে সুস্থ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির ওপর। কিন্তু আমাদের সমাজে রাজনীতিকে প্রায়শই দেখা হয় ক্ষমতার লড়াই, আধিপত্যবিস্তার,  দ্বন্দ্ব, এবং পারস্পরিক দোষারোপের ক্ষেত্র হিসেবে। এই ধারণা থেকে বের হয়ে এসে যদি রাজনীতিকে ভালো কাজের প্রতিযোগিতায় রূপান্তর করা যায়, তবে তা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমান সময়ে রাজনীতির চর্চায় অনেক ক্ষেত্রে নীতি ও আদর্শের চেয়ে প্রাধান্য পায় ব্যক্তিস্বার্থ ও দলীয় আধিপত্য। ফলে জনগণের প্রকৃত সমস্যা—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি—এসব বিষয় পেছনে পড়ে যায়। অথচ রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। যদি রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে কে বেশি উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারে, কে জনগণের জীবনমান উন্নত করতে পারে, কে জনস্বার্থে নতুন পলিসি বেশি গ্রহণ করতে পারে, কে জনগণের সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে পারে —তাহলে সেই প্রতিযোগিতা হবে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ।

ভালো কাজের প্রতিযোগিতার রাজনীতিতে গুরুত্ব পাবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, উন্নয়ন ও সেবামূলক মনোভাব। রাজনৈতিক নেতারা তখন জনগণের কাছে নিজেদের কাজের হিসাব দিতে বাধ্য হবেন। কে বেশি রাস্তা তৈরি করলো, কে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল গড়ে তুলল, কে দুর্নীতি কমাতে পারল, কে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো, কে বসবাসযোগ্য সমাজ বিনির্মানে বেশি ভূমিকা রাখলো—এইসব বিষয়ই হবে নির্বাচনের প্রধান ইস্যু। এতে জনগণও সচেতন হবে এবং যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নিতে পারবে।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে আমরা এর উদাহরণ দেখতে পাই। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সাফল্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করে। তারা প্রতিপক্ষকে হেয় করার চেয়ে নিজেদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ দিতে বেশি আগ্রহী। এই ধারা আমাদের দেশেও প্রতিষ্ঠিত হলে রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা অনেক বেড়ে যাবে।

সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে প্রয়োজন সচেতন নাগরিক সমাজ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব। গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ সবাইকে এই পরিবর্তনের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। নেতাদেরও বুঝতে হবে যে, ক্ষমতা নয়—সেবা ও উন্নয়নই রাজনীতির প্রকৃত লক্ষ্য।

রাজনীতি যদি সত্যিই মানুষের জন্য হয়, তাহলে সেটাকে ভালো কাজের প্রতিযোগিতায় রূপান্তর করতে হবে। তখন রাজনীতি আর বিভাজনের নয়, হবে উন্নয়ন আর অগ্রগতির প্রতীক।

এ ধরনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন সচেতন নাগরিক। মানুষকে বুঝতে হবে যে, তাদের ভোটই সবচেয়ে বড় শক্তি। তারা যদি ভালো কাজের মূল্যায়ন করে এবং অযোগ্য নেতৃত্বকে প্রত্যাখ্যান করে, তবে রাজনীতিবিদরাও ভালো কাজ করতে বাধ্য হবেন।

তরুণ প্রজন্ম এই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে। তারা যদি সৎ, দায়িত্বশীল এবং মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী হয়, তাহলে ভবিষ্যতের রাজনীতি অবশ্যই ইতিবাচক পথে এগোবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গঠনমূলক আলোচনা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি এই পরিবর্তনে সহায়ক হতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, “ভালো কাজের প্রতিযোগিতাই হোক রাজনীতি”—এটি শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং একটি প্রয়োজনীয় লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জিত হলে রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণের হাতিয়ার, এবং দেশ এগিয়ে যাবে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে।

লেখক: অ্যাড. ইউসুফ আলম মাসুদ, রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী। 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Translate »
%d bloggers like this: