April 21, 2026, 5:08 pm

মানবিক বিবেচনায় সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রীর জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২৬,
  • 10 Time View
Spread the love

রাজধানীর তেজগাঁও থানার বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেড় মাস বয়সী পুত্রসন্তানের মা যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে কারাগারে পাঠানোর চার ঘণ্টা পর জামিন দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক বিবেচনায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। দেড় মাসের বাচ্চাসহ তাকে কারাগারে পাঠানোর খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

অনেকে অবিলম্বে তার জামিন দাবি করেন।
পরে সেই আদেশ পুনর্বিবেচনা চেয়ে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন শিল্পীর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি।

সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পাঁচ হাজার টাকা বন্ডে তাকে জামিন দেন।
এদিন দুপুরে শিল্পীকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শেখ নজরুল ইসলাম।

আবেদনে বলা হয়, আসামি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণাদী পাওয়া গেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, আসামি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে তদন্তে জানা যাচ্ছে। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা বিশেষ প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি উল্লেখ করেন, তার এক মাস ১৬ দিনের পুত্রসন্তান রয়েছে। তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। যেকোনো শর্তে তার জামিন প্রার্থনা করছি। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতের আদেশের পর বেলা সোয়া ৩টার দিকে শিল্পী বেগমকে হাজতখানায় নিতে বের করা হয়। এ সময় আসামিকে কাঁদতে দেখা যায়।

তখন তার কোলে তুলে দেওয়া হয় দেড় মাস বয়সী বাচ্চাকে। আদালতের বারান্দায় রাখা বেঞ্চে বসেই সেই বাচ্চাকে দুধ খাওয়ান তিনি।

পরে ওই বাচ্চাকে কোলে নিয়েই নিরাপত্তা বেষ্টনীতে তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। এ সময় যুবলীগ নেত্রী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে বাচ্চাসহ কারাগারে যেতে হচ্ছে।’

মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় তাহমিদ মুবিন রাতুল নামে এক শিক্ষার্থীকে গুলি ও তার বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলাটি করা হয়। বাদী তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী তাদের আক্রমণ করেন।

পরে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ওই বছরের ২৩ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় মামলার এজাহারনামীয় আসামিরাসহ আরও অজ্ঞাতপরিচয় ১২০-১৩০ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং পিস্তল, বোমা নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালান। এতে আসবাব ও ইলেকট্রনিকস জিনিসপত্র ভাঙচুর করে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। তিন লাখ টাকা মূল্যের বাসার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান। ভুক্তভোগীর বাসার সামনে রাস্তার ওপর বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

আসামি শিল্পী ও অন্য আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে ওই শিক্ষার্থীর পিতা মো. সোহেল রানাকেও এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Translate »
%d bloggers like this: