April 15, 2026, 8:23 pm

আগামী দুই মাস জ্বালানি তেলের ঘাটতি হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬,
  • 16 Time View
Spread the love
আগামী দুই মাসে দেশে জ্বালানির কোনো সংকট হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, সারা দেশে গত ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৯১৬টি অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে এবং ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরো বলেন, সারা দেশে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ডিজেল উদ্ধারের পরিমাণ হচ্ছে ৩ লাখ ৬ হাজার লিটার, অকটেন উদ্ধার হয়েছে ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার, পেট্রল ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার, গত পরশু দিন চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার ফার্নেস অয়েল।

তিনি বলেন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সারা দেশে সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৪২ হাজার ৩৬ লিটার অবৈধ মজুদকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

মনির চৌধুরী বলেন, আজকের দিনের মজুদ পরিস্থিতি টোটাল ডিজেলের আছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৫ টন, অকটেন আছে ৩১ হাজার ৮২১ টন। পেট্রল আছে ১৮ হাজার ২১ টন। ফার্নেস অয়েল আছে ৭৭ হাজার ৫৪৬ টন। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, চট্টগ্রামে অবস্থিত একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার প্রতিষ্ঠান  ইস্টার্ন রিফাইনারি আমাদের একমাত্র পরিশোধনাগার। সেখানে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টনের মতো ক্রুড অয়েল এনে ওখানে পরিশোধন করা হয় এবং এই রিফাইনারি থেকে সারা বছরে বাংলাদেশের যে তেল দরকার তার মাত্র ২০ শতাংশ সরবরাহ নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এটা বন্ধ হয়ে গেলেও সরকারের কাছে আরো জ্বালানি তেলের বিকল্প আছে। কারণ সরকার সব সময় বিদেশ থেকে রিফাইন তেল আমদানি করে থাকে। তবে ইস্টার্ন রিফাইনারি এখনো সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়নি। রিফাইনারির দুটি ইউনিট এখনো চালু আছে। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পুরোদমে কাজ শুরু করতে পারবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

মনির চৌধুরী বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ক্রুড অয়েলের একমাত্র সোর্স যেটা হরমুজ দিয়ে আসে সৌদি আরব এবং আরব আমিরাত থেকে। সৌদির আরামকো এবং আরব আমিরাত থেকে এআলফ অ্যারাবিয়ান বাইট ক্রুট যেটা সেটা আমরা আনি। এনে আমাদের রিফাইনারিতে আমরা সেটা পরিশোধন করি। কিন্তু যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার পরে মার্চ মাসে আমাদের যে শিডিউলটা ছিল সেটা আমরা আনতে পারিনি। আর এপ্রিল মাসেও একই অবস্থা চলছে। কিন্তু ফরচুনেটলি আমাদের মোটামুটি আগের যে মজুদ ছিল সেটা দিয়ে আমরা কন্টিনিউ করে যাচ্ছিলাম।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা খুব সীমিত পর্যায়ে হলেও পরবর্তী যে চালানটা আমরা পাব আশা করছি আগামী ২০ তারিখ নাগাদ। আমাদের ক্রুড অয়েলের একটা জাহাজ সৌদি আরবের ইয়াম্বু বন্দর থেকে স্টার্ট করে লোহিত সাগর হয়ে ভিন্ন চ্যানেলে চলতি এপ্রিলের লাস্ট উইকে কিংবা মে মাসের ১-২ তারিখের মধ্যে এসে পৌঁছাবে। তো সে পর্যন্ত আমরা সীমিত পরিসরে আমাদের ইআরএলটাকে চালু রাখব।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে একটু জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই যে ইআরএল (ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড)-এর বিষয়টা আমাদের জ্বালানি সরবরাহ চ্যানেলে খুব প্রভাব বিস্তার করে না। কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণ রিফাইন অয়েল আমাদের হাতে আছে। ইআরএলের কাজ রিফাইন করা। ফলে রিফাইনড অয়েল যখন আমার হাতে আছে ফলে ইআরএলের বিষয়টা আমাদের জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে তিনি বলেন, সরকার জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এখনই দাম বাড়ানোর পক্ষে নয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Translate »
%d bloggers like this: