
রোববার (০৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি কথা জানান।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি ছিল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তারা অনেকেই ফোর্স মেজর (চুক্তি পালন করতে না পারলে দায় মুক্তি সংক্রান্ত ধারা) ডিক্লেয়ার করেছে।
কিছু জায়গায় অসৎ উদ্দেশ্যে কিছু ঘটনা ঘটছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার তার মেশিনারিজ নিয়ে কাজ করছে। আজ সকালেও আমরা দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেছি। সেখানে আলোচনা হয়েছে কীভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া যায়। বিপিসি এবং পদ্মা, মেঘনা, যমুনা কোম্পানির পক্ষেও যদি কোনো ত্রুটি থাকে, তা সংশোধন করে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও মসৃণ করার চেষ্টা চলছে, যাতে জনদুর্ভোগ কমে এবং জনগণও দায়িত্বশীল আচরণ করে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। যুদ্ধ শেষ হলেও এর প্রভাব কিছুদিন থাকতে পারে। সে কারণেই আমরা তিন মাসের জ্বালানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা করছি। ডিজেলের ক্ষেত্রে একটি বড় বিষয় হচ্ছে স্টোরেজ ক্যাপাসিটি। শুধু জ্বালানি আনলেই হবে না, সংরক্ষণের ব্যবস্থাও বাড়াতে হবে। আমরা সমান্তরালভাবে সেই সক্ষমতা বাড়াচ্ছি। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর যেমন বিএডিসি, রেলওয়ে—এমনকি প্রয়োজনে বেসরকারি খাতের পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোর অব্যবহৃত সংরক্ষণ ক্ষমতাও ব্যবহার করা হবে।
রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে লেখা চিঠির বিষয় জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রীর একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। সেখানে আমাদের অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, আমরা আশাবাদী।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, তিন মাসের মজুত আছে মানে এই নয় যে আমরা এক মাসেই তা শেষ করে ফেলব। আমাদের একটি নির্ধারিত চাহিদা আছে। এই সময় সাশ্রয়ী হওয়া এবং দায়িত্বশীল আচরণ করা খুব জরুরি। সরকার যদি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করে, তাহলে শেষ পর্যন্ত জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেষে আমি বলতে চাই, এপ্রিল মাসের জন্য ডিজেল, পেট্রল, অকটেন, এলএনজি, এলপিজি, জেট ফুয়েল এবং ফার্নেস অয়েল সব ধরনের জ্বালানির চাহিদা পূরণের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। তিন মাসের সংরক্ষণ নীতিও বাস্তবায়নের পথে। পেট্রল ও অকটেনের ক্ষেত্রে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, ডিজেলের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া চলছে।
নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনে সরকারি-বেসরকারি খাতে বিদ্যমান অব্যবহৃত সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তাই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চলমান এই সাময়িক সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।