September 7, 2026, 7:10 pm

এখনো ভেঙে পড়েনি ইরানের শাসনব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : Monday, March 2, 2026,
  • 127 Time View
Spread the love

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম ধাপেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ায় ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এই প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র এত বড় সংকটে পড়েছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযান ছিল ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি চূড়ান্ত আঘাত, যার উদ্দেশ্য ছিল দেশটির কমান্ড কাঠামো ভেঙে দেওয়া। শনিবার রাতের মধ্যেই খামেনির মৃত্যুর খবর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যা কয়েক দিন আগেও অনেকের কাছে অকল্পনীয় ছিল। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের বড় শহরগুলোর কিছু এলাকায় মানুষ আনন্দ উদযাপন করছে।

 

 

বিদেশে বসবাসরত বহু ইরানিও একইভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। অনেকের কাছে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু ছিল এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা, যা বহু বছরের নাগরিক আন্দোলনও অর্জন করতে পারেনি। হামলার পর দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ইরানিদের উদ্দেশে বলেন, তারা যেন এই সুযোগে ‘নিজেদের সরকার নিজেদের হাতে নেয়’। একই সুরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব এবং তা কাম্য।

যুক্তরাষ্ট্র এই সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। সামরিক দিক থেকে এটি সুসমন্বিত এবং মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়েছে বলে মনে হলেও, ইরানের সাধারণ জনগণের প্রতি রাজনৈতিক আহ্বান কতটা প্রভাব ফেলবে তা অনিশ্চিত।

 

রোববার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এরপর দ্রুত তিন সদস্যের একটি অস্থায়ী পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়, যারা নির্বাহী ক্ষমতা সামলাবে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করার দায়িত্ব ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই ধর্মীয় নেতাদের মেয়াদ আট বছর। তবে এখানে একটি বড় শর্ত রয়েছে। অ্যাসেম্বলিতে প্রার্থী হতে হলে সবার আগে ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’-এর অনুমোদন পেতে হয়। এই ১২ সদস্যের কাউন্সিল আবার শাসন কাঠামোর সঙ্গেই ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, ছয়জনকে সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ দেন, আর বাকি ছয়জনকে বিচার বিভাগ মনোনীত করে এবং সংসদ অনুমোদন দেয়। বিচার বিভাগের প্রধানও সর্বোচ্চ নেতার নিয়োগপ্রাপ্ত। অর্থাৎ, যেই প্রতিষ্ঠান তার উত্তরসূরি বেছে নেবে, সেটির ওপরও খামেনির দীর্ঘদিনের প্রভাব ছিল। তাই শাসকগোষ্ঠী দ্রুত স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সংবিধানের নিয়ম মেনে অস্থায়ী শাসনব্যবস্থা চালু করে তারা বোঝাতে চায়, শীর্ষ নেতার মৃত্যু হলেও পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি। এখন সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানে সাধারণত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম আগে থেকে প্রকাশ করা হয় না; পুরো প্রক্রিয়া হয় বন্ধ দরজার আড়ালে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Translate »