June 11, 2026, 5:31 pm

এক নজরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬,
  • 11 Time View
Spread the love

দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রায়’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে জাতির সামনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আর অনুদানসহ সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব ও বৈদেশিক অনুদান থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক অনুদান ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।

মোট রাজস্বের মধ্যে কর রাজস্ব থেকে আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআর-বহির্ভূত উৎস থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কর-বহির্ভূত রাজস্ব থেকে আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬৬ হাজার কোটি টাকা।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে পরিচালন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আবর্তক ব্যয় ৫ লাখ ৫১ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ। এর মধ্যে দেশিয় ঋণের সুদ ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য মোট ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য বরাদ্দ ৩ লাখ কোটি টাকা। এছাড়া বিভিন্ন স্কিম, বিশেষ প্রকল্প এবং খাদ্যের বিনিময়ে কর্মসূচির জন্যও পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেটে অনুদান বাদ দিলে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। আগামী অর্থবছর ঘাটতি মেটাতে সরকার বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় উৎস থেকেই ঋণ নেবে। বৈদেশিক ঋণ থেকে নিট অর্থায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। এ জন্য নতুন করে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে, বিপরীতে ৪৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হবে।

অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নিট ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক-বহির্ভূত উৎস থেকে নিট ঋণ নেওয়া হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, উন্নয়ন ব্যয়ের গতি বাড়ানো এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Translate »
%d bloggers like this: