September 5, 2026, 9:05 pm

ইরানে মার্কিন হামলায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি দেখছে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : Sunday, June 22, 2025,
  • 190 Time View
TEL AVIV, ISRAEL - JUNE 22: (----EDITORIAL USE ONLY MANDATORY CREDIT - 'ISRAELI POLICE / HANDOUT' - NO MARKETING NO ADVERTISING CAMPAIGNS - DISTRIBUTED AS A SERVICE TO CLIENTS----) Israeli police and search and rescue teams deploy to the area begin investigation and search operations after one of the missiles launched by Iran in retaliation for Israeli attacks struck the center of Tel Aviv, Israel, on June 22, 2025. (Photo by Israeli Police / Handout/Anadolu via Getty Images)
Spread the love

মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও ইসরায়েলের মাঝে টানা ১০ম দিনের মতো হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় ১৩ জুন ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি করেছে। আঞ্চলিক এই সংঘাতে বিশ্বের পরাশক্তি দেশগুলোও জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরান-ইসরায়েলের চলমান এই সংঘাতের প্রতি মুহূর্তের লাইভ আপডেট জানতে ঢাকা পোস্টের সঙ্গে থাকুন।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে চীন। এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বেইজিং বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করছে যুক্তরাষ্ট্র।

dhakapost

রোববার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে অবিলম্বে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘ইরানে মার্কিন হামলা এবং আইএইএর নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমাবর্ষণের কঠোর নিন্দা জানায় চীন।” বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের কার্যকলাপ জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য, নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করেছে। এই হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।’’

চীন সব পক্ষ—বিশেষ করে ইসরায়েলকে দ্রুত যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে, বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বেইজিং বলেছে, ‘‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে একসাথে কাজ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে চীন; যাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।’’

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে ইরানে মার্কিন এই হামলাকে ‘‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’’ ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলেও অভিহিত করেছে মস্কো।

রোববার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘যেকোনও যুক্তিই দেখানো হোক না কেন, একটি সার্বভৌম দেশের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা হামলা চালানোর মতো এই দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার স্পষ্ট লঙ্ঘন।’’ বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ঝুঁকি ‘‘অত্যন্ত’’ বাড়িয়ে দিয়েছে।

রুশ লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপিআর) নেতা লিওনিদ স্লুটস্কি বলেছেন, এই হামলার কোনও সামরিক কারণ ছিল না এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এর কোনও বৈধতা নেই।

রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমার ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রধান লিওনিদ বলেন, এই উত্তেজনার ফলাফল শুধু এই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ওয়াশিংটন জানে, তেহরানের জবাব অবধারিত। এসব কিছু সংঘাতের চক্রকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ইসরায়েলের ওপর সাম্প্রতিক হামলায় ইরান খায়বার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে। কিছুক্ষণ আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের জারি করা একটি বিবৃতিতে ইসরায়েলের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতে প্রথমবারের মতো ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছে।

এই ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য তুলে ধরা হল : খাইবার ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের সর্বশেষ মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি। আনুষ্ঠানিকভাবে খোররামশহর-৪ নামে পরিচিত। এটি দেশীয়ভাবে উৎপন্ন খোররামশাহর ক্ষেপণাস্ত্র সিরিজের ফোর্থ জেনারেশন।

২০০০ কিলোমিটার পাল্লার খায়বার ক্ষেপণাস্ত্র দেড় হাজার কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম, যা ইরানের মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে সবচেয়ে ভারী ওয়ারহেডগুলোর একটি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সামনে দাঁড়িয়ে রোববার সকালে যখন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন তিনি শুরুতেই হিব্রু ভাষায় ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের বিষয়ে নাটকীয় কোনও বর্ণনা দেশের জনগণের উদ্দেশে দেননি তিনি। বরং এর পরিবর্তে সরাসরি ইংরেজিতে বক্তব্য দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেন। আর তার এই প্রশংসার নেপথ্য কারণ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা।

নেতানিয়াহুর কণ্ঠে বিজয়ের সুর এবং চাপা হাসি অপ্রত্যাশিত নয়। কারণ তার রাজনৈতিক জীবনের বড় একটি অংশজুড়েই ছিল ইরানকে ইসরায়েলের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরা। গত ১৫ বছর ধরে তার মার্কিন মিত্রকে বোঝানোর চেষ্টা করে আসছেন যে, কেবল সামরিক হামলাই (এবং শুধু মার্কিন অস্ত্র দিয়েই) ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা সম্ভব।

‘ইতিহাস বদলে দেওয়ার’ মতো সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে নেতানিয়াহু নিজেকেও অভিনন্দন জানাতে পারেন। কারণ তিনি এমন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মনোভাব বদলাতে সক্ষম হয়েছেন, যিনি নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং তার সমর্থকদের বেশিরভাগই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর পক্ষে ছিলেন না।

তবে ইরান কত দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে কিংবা আদৌ সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে ইসরায়েলের মূল্যায়নকে গুরুত্ব দেয়নি ট্রাম্পের নিজের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। গত দশ দিন আগে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইসরায়েলের সরকার ও সেনাবাহিনী বার বার দাবি করেছে, ইরানি হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা তাদের নিজেদেরেই রয়েছে।

ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাতের আঁধারে দেশটির ফোর্দো, নাতাঞ্জ আর ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলা চালায়। আর এই হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করে অত্যাধুনিক বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান।

এসব বিমান যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে এবং একটানা প্রায় ৩৭ ঘণ্টা উড়ে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববার ভোরে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানা বি-২ বিমানগুলো মিসৌরিতে তাদের ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর প্রায় ৩৭ ঘণ্টা ধরে অবিরাম উড়েছিল এবং আকাশে থাকা অবস্থায়ই বেশ কয়েকবার জ্বালানি নেয়।

ইসরায়েলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান

ইসরায়েলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলজুড়ে বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে দেশটি। ইরানের এই হামলার মধ্যে জেরুজালেমে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র কিছুক্ষণ আগে শনাক্ত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে আইডিএফ। হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে এই বিবৃতিতে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জনগণকে সুরক্ষিত একটি স্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছে আইডিএফ।

এদিকে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, এমন সতর্কবার্তার পরই জেরুজালেমে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

মার্কিন হামলার জবাবে পাল্টা হুংকার ইরানের, আকাশসীমা বন্ধ করল ইসরায়েল

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন রোববার এক ঘোষণায় বলেছে, “এখন থেকে এই অঞ্চলে অবস্থানরত প্রতিটি মার্কিন নাগরিক এবং সেনাসদস্য (হামলার) বৈধ টার্গেট।”

এই মন্তব্যের কয়েক দিন আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তারা এমন ক্ষতির মুখে পড়বে যা কখনোই পূরণ করা সম্ভব হবে না।”

এদিকে ইসরায়েল সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় চলে গেছে। তারা শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করেছে, জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় সব ধরনের কাজ বন্ধ ঘোষণা করেছে। এছাড়া ইসরায়েল তাদের আকাশসীমাও বন্ধ ঘোষণা করেছে।

ইসরায়েলি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে ইসরায়েলের আকাশসীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগমন ও বহির্গমন উভয়ের জন্যই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।”

ইরানের জন্য অপেক্ষা করছে বড় ট্র্যাজেডি, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

শান্তি না এলে ইরানের জন্য বড় ট্র্যাজেডি অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনও অনেক লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে বলেও ইরানকে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।

ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, “এই অবস্থা আর চলতে পারে না। হয় শান্তি আসবে, নয়তো ইরানের জন্য এমন এক ট্র্যাজেডি নেমে আসবে যা গত আট দিনে দেখা ঘটনাগুলোর চেয়েও ভয়াবহ হবে।” তিনি বলেন, “মনে রাখবেন, আমাদের সামনে এখনও অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে।”

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি রেখেছি : নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার সময় তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন— ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা হবে— সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রেখেছেন।

ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্র লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তিনি এ মন্তব্য করেন। এছাড়া ইরানে হামলা চালানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি রেখেছি : নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পর ইসরায়েলি জনগণের উদ্দেশে হিব্রু ভাষায় এক ভিডিওবার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি জানান, এই মার্কিন সামরিক অভিযান সম্পূর্ণভাবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১৩ জুন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী যে অভিযান শুরু করেছিল, তা যুক্তরাষ্ট্র এখন সম্পূর্ণ করে ফেলেছে। নেতানিয়াহু বলেন, “অভিযানের শুরুতেই আমি আপনাদের বলেছিলাম— ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হবে, যেভাবেই হোক। আমি সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছি।”

ইরানের মূল পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছে: ট্রাম্প

ইরানের মূল পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ইরানকে এখন শান্তির পথে আসতেই হবে। তা না হলে ভবিষ্যতের হামলা আরও বড় হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে “ব্যাপক নির্ভুল হামলা” চালিয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাস-সমর্থক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটানো”। ট্রাম্প বলেন, “আজ রাতে আমি বিশ্বকে জানাতে পারি— এই হামলা ছিল অসাধারণ সফল একটি সামরিক অভিযান।”

ইরানের ফোর্দোতে ছয়টি ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ তথ্য জানিয়েছেন। এর মধ্যে ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত ফোর্দো পারমাণবিক কেন্দ্রে ছয়টি ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক উপস্থাপকের বরাত দিয়ে রোববার (২২ জুন) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।

ফক্স নিউজের জনপ্রিয় উপস্থাপক শন হ্যানিটি জানিয়েছেন, তিনি সদ্যই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ট্রাম্প তাকে জানিয়েছেন, ইরানের পাহাড়ের নিচে থাকা গোপন ফোর্দো পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ছয়টি ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Translate »