
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আগামী ৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির (সিভাসু) বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে সাবেক উপাচার্য ড. নীতীশ চন্দ্র দেবনাথের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে ক্যাম্পাসসহ পুরো চট্টগ্রামে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতে, ফ্যাসিস্ট আমলের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই সাবেক ভিসির উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে অশান্ত করে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের আগস্টে সিভাসুর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলেও বিগত জোট সরকারের আমলে ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে কখনো বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন সম্ভব হয়নি। ড. নীতীশ চন্দ্র দেবনাথ সিভাসুর রূপকার জনাব আবদুল্লাহ আল নোমানের সদিচ্ছায় ভিসি হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী ইজম ও ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগে বিতর্কিত হয়ে ওঠেন।
২০২৩ সালে তিনি দেশের বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে মামলা স্থগিতের বিরোধিতা করে প্রকাশ্যে বিবৃতি দেন। তাছাড়া ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গণভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্র আন্দোলন দমন নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এতে ছাত্রসমাজের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়।
বর্তমান উপাচার্য মোহাম্মদ লুৎফুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি ড. নীতীশের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক হওয়ার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও (৪৮তম পজিশনে থাকা, প্রথম বিভাগ না পাওয়া, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মাত্র ৮ নম্বর ভিসি গ্রেসে উত্তীর্ণ) কেবল ময়মনসিংহের লোক হওয়ার কারণে ড. নীতীশ তাঁকে অনৈতিকভাবে সিভাসুর এনাটমি ও হিস্টোলজি বিভাগে নিয়োগ দেন। সেই কৃতজ্ঞতা থেকেই লুৎফুর রহমান আজও ড. নীতীশের প্রচারক ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সক্রিয় আছেন বলে অভিযোগ।
এছাড়া ড. আহসানুল হক রোকনকে তাঁর ‘ভাবশিষ্য’ হিসেবে পরিচিত করা হয়। জানা যায়, নতুন ফ্যাকাল্টি নিয়োগে অনিয়মের পেছনেও তাঁর প্রভাব কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতে উপাচার্য পদের জন্য তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের পর গোটা দেশে পরিবর্তনের হাওয়া বইলেও সিভাসু এখনো প্রাক্তন ভিসি ড. নীতীশের ছায়া থেকে মুক্ত হতে পারেনি। ছাত্র-শিক্ষক মহলের একাংশের মতে, ফ্যাসিস্ট শক্তির লালন-পালনকারী ড. নীতীশের ক্যাম্পাসে আগমন বিশ্ববিদ্যালয়ের চেতনাকে কলঙ্কিত করবে এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, “ডক্টর নীতীশ এই ক্যাম্পাসে ইন্ডিয়ান এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন। উনি আসলে ক্যাম্পাস কলঙ্কিত হবে। জুলাই বিপ্লবের চেতনা বিরোধী এমন ষড়যন্ত্র আমরা মেনে নেব না।”