
বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় আইনজীবীদের ভূমিকা মূলত দুই পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন করা। বাদী-বিবাদী উভয়ের বক্তব্য শুনেই আদালত রায় দেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক অঙ্গনে আইন ও সংবিধানের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে একপাক্ষিক বক্তব্যকেই অনেকেই ‘চূড়ান্ত সত্য’ হিসেবে ধরে নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র এডভোকেট ব্যারিস্টার মোঃ রুহুল কুদ্দুস (কাজল) এই প্রসঙ্গে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, “একপাক্ষিক নয়, দ্বিপাক্ষিক-বহুপাক্ষিক যুক্তিতর্ক, বক্তব্য ও মতামত শুনে আইন ও সাংবিধানিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে হবে।”
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রায়ই দেখা যায়—কোনো একটি দলের বক্তব্য বা ব্যাখ্যাকে সত্য ধরে নিয়ে সামাজিক ও গণমাধ্যমে প্রচার হয়। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয় এবং আইন-সংবিধান নিয়ে এক ধরনের অস্বচ্ছতা তৈরি হয়। ব্যারিস্টার কাজলের মতে, এটি ন্যায়বিচারের দর্শনের সাথে সাংঘর্ষিক।
বিচারিক প্রক্রিয়ায় ‘ন্যায়বিচার’ মানে কেবল রায় দেওয়া নয়, বরং সেই রায় যেন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। এজন্যই বাদী-বিবাদী উভয়ের যুক্তি শুনে বিচারক সিদ্ধান্ত দেন। যদিও আইনে একতরফা রায়ের বিধান আছে, কিন্তু তার সংখ্যা হাতেগোনা। অর্থাৎ, এটি ব্যতিক্রম, নিয়ম নয়।
বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অনেক সময় আইনের ধারা, সংবিধানের ব্যাখ্যা কিংবা রায় নিয়ে পক্ষবিশেষ নিজেদের মতো ব্যাখ্যা হাজির করছে। এই প্রবণতা গণতান্ত্রিক আলোচনাকে সংকীর্ণ করছে এবং রাষ্ট্রের মৌলিক আইনি কাঠামোকে দুর্বল করছে।
ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের স্ট্যাটাস কেবল একটি আইনজীবীর ব্যক্তিগত উপলব্ধি নয়, বরং এটি একটি সতর্কবার্তা—ন্যায়বিচার ও সংবিধানকে একপাক্ষিক ব্যাখ্যা দিয়ে নয়, বরং বহুমাত্রিক আলোচনা ও যুক্তির ভিত্তিতেই এগিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় বিভ্রান্তি, অবিশ্বাস এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে।