
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সরকার গঠন করতে পারলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব। সেই ধারাবাহিকতায় সরকার গঠনের এক মাসের কম সময়ে আজ ৩৭ হাজার নারীর হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে পেরেছি। পর্যায়ক্রমে সব পরিবার প্রধান নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই।’ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা একে একে সব প্রতিশ্রুতি পূরণের চেষ্টা করব। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিন্দুমাত্র ব্যত্যয় হবে না। হয়তো বৈশ্বিক কারণে কিছুটা সময় লাগতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘নারীদেরকে যদি ক্ষমতায়ন না করতে পারি, তাহলে দেশের উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব না।
খালেদা জিয়াও নারীদেরকে মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছিলেন।’ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি দায়িত্বশীল সরকারের ভূমিকা পালন করতে চাই। যে সরকার জনগণ ও দেশের জন্য কাজ করবে। আমরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চাই। তারই অংশ হিসেবে নির্বাচনের আগে আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করব। জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু করেছি।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো আগামী মাসে কৃষক ভাইদের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দিতে সক্ষম হবো। আমরা যেকোনো মূল্যে আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব। আমাদের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত খুশি ও আবেগের দিন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত সপ্তাহে কৃষকদের সুদসহ কৃষি ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে জনগণের প্রতিনিধিমূলক ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই সরকার জনগণ নির্বাচিত করেছে, কাজেই স্বাভাবিকভাবে সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি ও দেশের বিশিষ্ট নাগরিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এ জন্য প্রতিটি উপজেলার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।