September 12, 2026, 2:12 am

আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে চায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : Tuesday, February 24, 2026,
  • 223 Time View
Spread the love

ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে প্রতি বছর শত শত মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে নতুন করে আলোচনা করতে চায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূতের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, আদানি পাওয়ারের বিদ্যুতের দাম বেশি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে নতুন করে আলোচনা করতে চায় বিএনপির নেতৃত্বের নতুন সরকার, যা তাদের বিভিন্ন নতুন উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছেন, আদানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে কয়লা ব্যবহার করে সেটির দাম অনেক বেশি। ফলে বিদ্যুতের দামও বেশি হচ্ছে। যার ভার বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র বলেছেন, নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হলো আদানির সঙ্গে দাম নিয়ে নতুন করে আলোচনা করা। তবে আদানির সঙ্গে বিষয়টি এখনো উত্থাপন করা হয়নি। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেছিল ব্লুমবার্গ। তবে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এছাড়াও আদানি পাওয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের নতুন সরকার পুনঃআলোচনার ব্যাপারে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তিনি বলেছেন, এ মুহূর্তে চুক্তির সব ধারা তারা পূরণ করে যাচ্ছেন। ভারতের বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার। সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ও আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের (এপিজেএল) মধ্যে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি হয়। ২৫ বছরের জন্য ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) স্বাক্ষর করে তারা। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ দিতে ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে আদানি পাওয়ার।

চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ আদানি গ্রুপের গোড্ডা কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ কিনবে। এই ইউনিটটি ১০০ শতাংশ আমদানি করা কয়লা দিয়ে চালানো হয়। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে এটি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০২৩ সালের এপ্রিল-জুন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। এর পর থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে আদানি। গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আদানির বিদ্যুতের দাম যত হওয়া উচিত ছিল বর্তমানে ‘এটির দাম অন্তত ৫০ শতাংশ বেশি’। এদিকে ব্লুমবার্গ বলেছে, বাংলাদেশ সরকার যদি আদানির বিদ্যুৎ নিয়ে পুনরায় আলোচনা করতে চায় তাহলে তা দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে চান।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Translate »