September 6, 2026, 7:25 am

৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : Saturday, March 14, 2026,
  • 101 Time View
Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোতে আনার পথে প্রায় ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পদ্মা অয়েল পিএলসির একটি তদন্ত দল কুর্মিটোলা ডিপোতে কাজ শুরু করেছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে পদ্মা অয়েলের তিন সদস্যের একটি টিম কুর্মিটোলা ডিপোতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাইসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তদন্ত দলে রয়েছেন পদ্মা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) ও হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স মো. শফিউল আজম, ব্যবস্থাপক (পরিচালন) পেয়ার আহাম্মদ এবং কর্মকর্তা (ইঞ্জিনিয়ার) কে এম আবদুর রহিম।

এর আগে শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিবাগত রাতে একটি সংবাদমাধ্যমে ‘অস্থিরতার মধ্যে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরি, নেপথ্যে পুরনো সিন্ডিকেট’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরদিনই ঘটনাটি তদন্তে নামে পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ।

সিসিটিভি ফুটেজ ও তেল পরিমাপ করে তদন্ত

তদন্ত দলের সদস্যরা ডিপোর বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি তেলবাহী গাড়ির চলাচল সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে দেখতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিসিটিভি ফুটেজও যাচাই করা হয়। ডিপোতে সংরক্ষিত তেলের পরিমাণও পরিমাপ করে দেখা হয়।

এ সময় ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্ত দল বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে ছেড়ে আসা জেট ফুয়েলবাহী গাড়িগুলোর গতিপথ এবং কুর্মিটোলা ডিপোতে প্রবেশের তথ্য। কাগজে-কলমে গাড়িগুলো ডিপোতে পৌঁছেছে দেখানো হলেও বাস্তবে সেগুলো পৌঁছেছিল কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।

পদ্মা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) মো. শফিউল আজম বলেন, সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে সকাল থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত এখনো চলমান। আমরা সব তথ্য যাচাই করে দেখছি।

চারটি তেলবাহী গাড়ি নিয়ে সন্দেহ

পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তারা জানান, জেট ফুয়েল মূলত বিমানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে তুলনামূলক কম দামের হওয়ায় কিছু অসাধু চক্র এটি অকটেনের সঙ্গে মিশিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বুধবার (১১ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে জেট ফুয়েল নিয়ে ছেড়ে যাওয়া অন্তত চারটি তেলবাহী গাড়ি কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছায়নি। গাড়িগুলোর নম্বর হলো—৪১-০৭০০, ৪২-০২৫২, ৪১-০৬৪৯ ও ৪১-০৬৯৮।

তবে কাগজে-কলমে এসব গাড়ি কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তবে গাড়িগুলোতে থাকা তেল অন্যত্র পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুরনো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ

অভিযোগ উঠেছে, পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক (এভিয়েশন) মো. সাইদুল হকের নেতৃত্বে একটি পুরোনো সিন্ডিকেট আবারও এই চুরির সঙ্গে জড়িত।

সাইদুল হকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই তেল চুরির অভিযোগ রয়েছে। চাকরিজীবনের দীর্ঘ সময় ডিপোতে কর্মরত এই কর্মকর্তাকে থামাতে গত বছরের ২০ জানুয়ারি পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ তাকে সতর্ক করে চিঠি দেয়। কিন্তু সেই সতর্কবার্তার পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

আগেও গঠন হয়েছিল তদন্ত কমিটি

সবশেষ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কুর্মিটোলা ডিপো থেকে ধারাবাহিক তেল চুরির অভিযোগে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

সংস্থাটির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত চিঠিতে কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।

এরই মধ্যে তদন্তের অংশ হিসেবে গত ৮ মার্চ কুর্মিটোলা ডিপো পরিদর্শন করে কমিটি। সে সময় তেল চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডিপোর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Translate »