The post ভালোবাসার অপূর্ণতা থেকে পূর্ণতার গল্প—বইমেলায় এডভোকেট সরোয়ার লাভলুর ‘ভালোবাসার মিসকল’ appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>চট্টগ্রাম বইমেলায় উন্মোচিত হলো ‘ভালোবাসার মিসকল’: প্রেম ও বাস্তবতার অনন্য গল্প
চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যবাহী এম এ আজিজ স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে চলমান অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ তৃতীয় চোখ প্রকাশনার স্টলে অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত উপন্যাস “ভালোবাসার মিসকল”-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজন ঘিরে বইপ্রেমী, লেখক ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহিদুল করিম কচি, আমার দেশ পত্রিকার আবাসিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৃতীয় চোখ প্রকাশনার প্রকাশক মোঃ আলী প্রয়াস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আইআইইউসি ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মাহবুবুল হাসান অনু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এ এম মুন্না চৌধুরী, সাংবাদিক এমকে মনির, লেখকের সহধর্মিনী নাজমা আরা সরোয়ার, লায়ন হালিমা চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ইসরাত জেরিন পাপিয়া, অ্যাডভোকেট নাজমুল হোসেন অভি, নার্গিস আক্তার নিশি, ফাতেমা তুজ জোহরা, মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিন, জেবুন্নেছা সহ অসংখ্য পাঠক-লেখক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহিদুল করিম কচি বলেন, “বর্তমান সময়ে সাহিত্যে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা উপন্যাসের চাহিদা বাড়ছে। ‘ভালোবাসার মিসকল’ সেই ধারার একটি শক্তিশালী সংযোজন, যা পাঠকের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলবে।”
লেখক মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলু তার বক্তব্যে বলেন, “এই উপন্যাসটি আমার জীবনের অনুভূতি, সংগ্রাম ও উপলব্ধির প্রতিফলন। আমি বিশ্বাস করি, জীবনের সব ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না, কিন্তু প্রতিটি ভালোবাসা মানুষকে কিছু না কিছু শিখিয়ে যায়।”
প্রকাশক মোঃ আলী প্রয়াস বলেন, “এই বইটি শুধু একটি প্রেমের গল্প নয়, এটি জীবনের বাস্তবতা, হারানো ভালোবাসা এবং নতুন করে বেঁচে ওঠার এক অনন্য দলিল।”
লেখকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এ এম মুন্না চৌধুরী বলেন, “লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির গভীরতা এই উপন্যাসে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যা পাঠকদের সাথে সহজেই সংযোগ স্থাপন করবে।”
পাঠক প্রতিনিধি হিসেবে নার্গিস আক্তার নিশি বলেন, “গল্পের প্রতিটি স্তর আমাদের বাস্তব জীবনের সাথে মিলে যায়। বিশেষ করে প্রথম প্রেমের অপূর্ণতা ও পরবর্তীতে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী।”
উপন্যাস “ভালোবাসার মিসকল”-এর মূল ভাবনা আবর্তিত হয়েছে এমন এক বাস্তবতার উপর, যেখানে সব ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পায় না। গল্পের শুরুতে এক তরুণ ছাত্রের আন্তরিক প্রেম সামাজিক ও পারিবারিক কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা তার জীবনে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করে। তবে সেই কষ্ট তাকে ভেঙে না দিয়ে বরং নতুনভাবে গড়ে তোলে—সে আইনশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে।
সময়ের পরিক্রমায় তার জীবনে নতুন একজন মানুষের আগমন ঘটে, যার মাধ্যমে সে খুঁজে পায় জীবনের স্থিরতা ও শান্তি। অনেক বছর পর পুরনো প্রেমিকার সাথে পুনরায় যোগাযোগ হলেও সেখানে নতুন কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠে না; বরং অতীত স্মৃতি হিসেবেই থেকে যায়।
উপন্যাসটির নামের মধ্যেই একটি গভীর প্রতীক নিহিত রয়েছে—যেমন একটি “মিসকল” শুধু একটি ক্ষণিক ডাক, তেমনি জীবনের কিছু ভালোবাসাও ক্ষণস্থায়ী হয়ে স্মৃতির পাতায় রয়ে যায়।
সবশেষে, উপন্যাসটি এই বার্তাই দেয়—প্রথম প্রেম মানুষকে স্মৃতি দেয়, কিন্তু প্রকৃত জীবনসঙ্গী মানুষকে দেয় স্থায়ী শান্তি ও পূর্ণতা।
The post ভালোবাসার অপূর্ণতা থেকে পূর্ণতার গল্প—বইমেলায় এডভোকেট সরোয়ার লাভলুর ‘ভালোবাসার মিসকল’ appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>The post প্রকাশিত হতে যাচ্ছে এডভোকেট সরোয়ার লাভলুর প্রথম উপন্যাস ‘ভালোবাসার মিসকল’ appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>
শালার শালী মিস কল দাও….. একটি সাহসী মেসেজ, প্রথম প্রেম, প্রথম মিসকল… এক অদ্ভুত শুরু—এই কথাগুলোই যেন বইটির মর্মকথা।
একটা ভুল নাম্বার।
একটা দুষ্টু মেসেজ।
আর সেখান থেকেই শুরু এক অচেনা সম্পর্কের গল্প।
২০০৭ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি। একটি মিসকল বদলে দেয় জীবনের দিকচিহ্ন। মজা থেকে বন্ধুত্ব, বন্ধুত্ব থেকে অনুভূতি, আর অনুভূতির গভীরে জন্ম নেয় এক অদ্ভুত টান। একটি সাহসী মেসেজ খুলে দেয় নতুন পথের দরজা। তারপর শুরু হয় কথা, অপেক্ষা, অভিমান আর অপ্রকাশিত ভালোবাসার দীর্ঘ পথচলা।
উপন্যাসটি সম্পূর্ণ সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত। ভালোবাসা কি পরিকল্পনা করে আসে, নাকি হঠাৎ করেই এক অজানা নাম্বার থেকে জীবনে ঢুকে পড়ে—এই প্রশ্নের আবেগঘন উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে বইটির পাতায় পাতায়।
প্রচ্ছদ করেছেন নাজমা আরা সরোয়ার। তৃতীয়চোখ প্রকাশনার প্রকাশক আলী প্রয়াস প্রকাশিত সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত বইটি ঢাকা বইমেলা সহ এবং ঈদের পর চট্টগ্রাম বইমেলা সহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বাতিঘর (চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট), সাহিত্য বিচিত্রা, চন্দ্রবিন্দু, রকমারি ডটকম, ঢাকা , বিল্লাহ লাইব্রেরি, মাওলানা লাইব্রেরি (সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম) এবং ৩নং আইনজীবী মিলনায়তন, আইনজীবী ভবন, কোতোয়ালি, চট্টগ্রাম থেকেও সংগ্রহ করা যাবে।
প্রথম প্রেমের টান, দ্বিধা, বন্ধুত্ব আর অপ্রকাশিত অনুভূতির এক হৃদয়ছোঁয়া গল্প নিয়ে ‘ভালোবাসার মিসকল’ শিগগিরই পাঠকের হাতে পৌঁছাবে। সাহিত্যপ্রেমীদের মাঝে বইটি ইতোমধ্যে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
চোখ রাখুন—হয়তো এই গল্পেই খুঁজে পাবেন নিজের কোনো হারিয়ে যাওয়া মুহূর্ত।
The post প্রকাশিত হতে যাচ্ছে এডভোকেট সরোয়ার লাভলুর প্রথম উপন্যাস ‘ভালোবাসার মিসকল’ appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>The post রিভিউ: আন্তন চেখভের ‘বাজি’ আইন ও নৈতিকতার দ্বান্দ্বিক প্রেক্ষাপটে এক সাহিত্যিক পাঠ appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>অনুবাদক: মেজর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন মাহমুদ
রিভিউকার: এডভোকেট মোঃ সারোয়ার হোসাইন লাভলু,
আন্তন চেখভ রাশিয়ান সাহিত্যের একজন অনন্য কুশলী শিল্পী, যিনি তাঁর সংক্ষিপ্ত গল্পের মাধ্যমে মানব মননের জটিল গঠনতন্ত্র, নৈতিক সংশয় এবং সামাজিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছেন। তাঁর “বাজি” গল্পটি মূলত একটি নৈতিক ও আইন-দর্শনভিত্তিক ডিসকোর্স, যেখানে দণ্ডবিধির প্রকৃতি, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আর্থিক লোভ এবং আত্মজ্ঞান প্রশ্নের মুখে দাঁড়ায়।
গল্পটি শুরু হয় এক নৈশ ভোজে, যেখানে উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের মাঝে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ন্যায়সঙ্গততা নিয়ে একটি যুক্তিক বিতর্ক শুরু হয়। এই বিতর্কের সূত্র ধরেই গড়ে ওঠে গল্পের কেন্দ্রীয় ঘটনা—এক তরুণ আইনজীবী ও এক বিত্তশালী ব্যাংকারের মধ্যে সম্পাদিত একটি ‘চুক্তিগত বাজি’, যেখানে আইনজীবী স্বেচ্ছায় ১৫ বছর কারাবাসে থাকতে সম্মত হন দুই মিলিয়ন রুবলের বিনিময়ে।
আইন ও নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচ্য পয়েন্টসমূহ:
১. শাস্তির দর্শন ও মানবাধিকারের চেতনা:
গল্পে উত্থাপিত বিতর্কটি মূলত মৃত্যুদণ্ডের বৈধতা ও নৈতিকতা প্রশ্নে কেন্দ্রিত। একদিক থেকে এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার চর্চা, অপরদিকে এটি মানবাধিকার, বিশেষ করে জীবনের অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন। একজন আইনজীবী হিসেবে বলা যায়, এই বিতর্কটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে স্বীকৃত “right to life” ধারার অন্তর্নিহিত নৈতিক বয়ানকেই পুনরুচ্চারিত করে।
২. স্বেচ্ছায় কারাবাস: ব্যক্তি স্বাধীনতার একটি চরম পরীক্ষা:
আইনজীবী চরিত্রটি প্রতীকী অর্থে ব্যক্তি স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একটি চুক্তিতে প্রবেশ করেন, যার মধ্য দিয়ে লেখক মানব স্বাধীনতার বিপরীতে আর্থিক প্রলোভনের প্রভাব পরীক্ষা করেন। আইনত, এই চুক্তিটি অস্বাভাবিক হলেও, তা ব্যক্তি ইচ্ছার স্বাধীনতায় ভিত্তি করেই সম্পাদিত, যা চেখভের আঙ্গিকে এক প্রকার মনস্তাত্ত্বিক এবং সামাজিক পরীক্ষা।
৩. আধ্যাত্মিক উত্তরণ ও আত্মবর্জনের নৈতিকতা:
কারাবাসকালীন সময়ে আইনজীবীর মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর—বইপ্রীতি, ভাষা-অর্জন, ধর্ম-দর্শনের প্রতি আগ্রহ এবং শেষপর্যন্ত অর্থের প্রতি বিমুখতা—একজন আইনবিদের আত্মশুদ্ধির পথে অভিযাত্রার প্রতিচ্ছবি। এখানেই গল্পটি আইনের পুনর্বাসনমূলক (reformative justice) দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
৪. চুক্তি, দায় এবং অন্তর্নিহিত নৈতিক দায়িত্ব:
শেষ মুহূর্তে আইনজীবী যখন অর্থ প্রত্যাখ্যান করেন, তখন তা শুধু অর্থের প্রতি তাচ্ছিল্য নয়, বরং একটি গভীর নৈতিক দায়বদ্ধতা ও আত্মিক বিজয়ের প্রকাশ। অপরদিকে, ব্যাংকারের অপরাধপ্রবণ চিন্তা—আইনজীবীকে হত্যার কল্পনা—তাকে এক আত্ম-লাঞ্ছনার পথে ঠেলে দেয়। চেখভের এই চিত্রায়ন ‘পজিটিভ আইন’ (positive law) বনাম ‘ন্যাচারাল জাস্টিস’ (natural justice)-এর এক অনন্য দ্বন্দ্বকে সামনে আনে।
আন্তন চেখভের ‘বাজি’ নিছক একটি গল্প নয়, এটি একটি বিচারতাত্ত্বিক ও নৈতিক-দর্শনভিত্তিক পাঠ, যেখানে শাস্তির উদ্দেশ্য, মানবিক স্বত্বা, আর্থিক মোহ এবং আত্মোপলব্ধি এক সাথে উপস্থিত হয়। একজন আইনজীবী হিসেবে আমি একে দেখি আইন ও ন্যায়ের সীমারেখার মাঝে অবস্থানকারী এক মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা হিসেবে, যা শুধু ন্যায়বিচার নয়, নৈতিক উন্নয়নকেও আইন-প্রয়োগের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচনার দাবি তোলে।
চেখভের এ সাহিত্যকর্ম আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আইন প্রয়োগ কেবল বিচার বা দণ্ড প্রদানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ন্যায়, মানবতা এবং আত্মিক পুনর্গঠনের এক অবিচ্ছেদ্য প্রক্রিয়া।
রিভিউকার:
এডভোকেট মোঃ সারোয়ার হোসাইন লাভলু,
অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর, চট্টগ্রাম
চেয়ারম্যান, দিশারী যুব ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
The post রিভিউ: আন্তন চেখভের ‘বাজি’ আইন ও নৈতিকতার দ্বান্দ্বিক প্রেক্ষাপটে এক সাহিত্যিক পাঠ appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>The post জাতিসংঘের চিঠির জবাবে যা বলল সরকার appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ভোলকার তুর্ককে পাঠানো চিঠিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরকে বাংলাদেশ বিষয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর মন্তব্য করার আহ্বান জানানো হয়।
The post জাতিসংঘের চিঠির জবাবে যা বলল সরকার appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>