The post দেশে ধর্ষণ বেড়েছে ৬৮.৪৫ শতাংশ appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ শাইখ ইমতিয়াজ বলেন, ‘দেশের পুলিশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ফলে পুলিশ আগে যে সক্রিয় ভূমিকায় ছিল, জুলাই আন্দোলনে বাহিনীটি বিতর্কিত হওয়ার পর আর সেই ভূমিকায় ফেরেনি। তবে এটিই মূল কারণ নয়। জুলাই আন্দোলনের পর নারীদের স্বাধীনতা, অধিকার, বাইরে যাওয়া নিয়ে এক ধরনের বয়ান তৈরি করা হয়েছে। এতে নীরবে ধর্ষকদের একধরনের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।’
The post দেশে ধর্ষণ বেড়েছে ৬৮.৪৫ শতাংশ appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>The post বাড়ছে কিশোর গ্যাং বাড়ছে অপরাধ appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>পুলিশ কোথাও এই অপরাধীদের তালিকা তৈরি করছে, কোথাও অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের ধরাও হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি আরো বাড়াতে হবে। বিভিন্ন জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত বৈঠকে এই অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে আড্ডা দেওয়া বন্ধ, অভিভাবকদের সচেতন ও কাউন্সেলিং করা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর মতামত এসেছে।
গাজীপুরে ৩০ চক্র : গাজীপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক শরীফ আহমেদ শামীম জানান, গাজীপুর জেলার স্থানে স্থানে কিশোর অপরাধীদের কমপক্ষে ৩০টি চক্র সক্রিয় রয়েছে। গাজীপুর সদর, পুবাইল, টঙ্গী, বাসন, গাছা, কোনাবাড়ী, কাশিমপুরসহ বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও রয়েছে কিশোর অপরাধীদের বিভিন্ন চক্র। এসব চক্র বিভিন্ন নামে এলাকায় পরিচিত। আধিপত্য বিস্তার, দখলবাজি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, মারামারি, এমনকি খুনের ঘটনাও ঘটাচ্ছে তারা। তাদের কেউ নারীদের গলা থেকে সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়, কেউ তরুণীদের উত্ত্যক্তও করে।
কোনো চক্র রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়, আবার কোনোটি স্থানীয় প্রভাবশালী ‘বড় ভাই’দের আশ্রয়ে এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়াও দিচ্ছে তারা। কয়েক মাস ধরে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘেরবাজারসহ আশপাশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়ানো শুরু করেছিল ইলিয়াস মোল্লা গ্রুপ। গত ৩১ মে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল দেশীয় অস্ত্রসহ ইলিয়াস ও তার দুই সহযোগী ধরা পড়ে। এর কিছুদিন পর থেকে ইলিয়াস অনুসারীরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত ২৮ জুন এক কিশোরের পিস্তল উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ময়মনসিংহে পার্কে অপতৎপরতা : ময়মনসিংহ থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক নিয়ামুল কবীর সজল জানান, দিনের বেলা ও সন্ধ্যার পর ময়মনসিংহ মহানগরের পার্ক এলাকায় কিশোর অপরাধীদের তৎপরতা চোখে পড়ে। তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক চক্রও আছে। কোচিংপাড়া খ্যাত বাউন্ডারি রোড, নাহা রোডেও তাদের দাপট দেখা যায়। মিথ্যা অভিযোগ তুলে কোচিং বা প্রাইভেট পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের তারা নাজেহাল করে। পার্ক এলাকায় এরা বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালায়। তাদের হাতে পার্কের কর্মচারীরাও নির্যাতনের শিকার হন। ময়মনসিংহ (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম বলেন, কিছুদিন আগে বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় কিশোরদের এই অপতৎপরতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে আড্ডা দেওয়া বন্ধ, অভিভাবকদের সচেতন ও কাউন্সেলিং করা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর মতামত এসেছে। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামে ‘বড় ভাই’ পরিবর্তন করেছে তারা : চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক কাজী মনজুরুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রামজুড়ে কিশোর অপরাধীদের তৎপরতা বেড়েছে। তারা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মারধর, এমনকি খুনাখুনিতেও জড়াচ্ছে। অপরাধীরা আগের ‘বড় ভাই’ পরিবর্তন করেছে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) ২০১৯ সালে কিশোর অপরাধীদের তালিকা করেছিল। এখন তারা তালিকা হালনাগাদ করছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী, খুলশী, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, হালিশহর, ডবলমুরিং, কোতোয়ালি ও আকবর শাহ থানা এলাকায় কিশোর অপরাধীদের তৎপরতা বেশি। এসব এলাকায় প্রতিটি কিশোর অপরাধী চক্রের সদস্য ১৫ থেকে ৩০ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় কিশোর অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করেন ‘বড় ভাই’ সাইফুল ইসলাম ও সবুজ। হালিশহরে তা নিয়ন্ত্রণ করেন মো. আসলাম। চান্দগাঁওয়ের নিয়ন্ত্রক শহিদুল ইসলাম এবং কোতোয়ালি এলাকার নিয়ন্ত্রক মো. আবিদ। এসব স্থানে আগের ‘বড় ভাই’ পরিবর্তন করা হয়েছে।
রাজশাহী মহানগরেও চলে অপতৎপরতা : রাজশাহী অফিস প্রধান সাদিকুল ইসলাম স্বপন জানান, আধিপত্য বিস্তার ও অন্যান্য অনৈতিক কাজে ব্যবহার করার জন্য সুবিধাভোগী শ্রেণির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে রাজশাহী মহানগরে গড়ে উঠেছে কিশোর অপরাধী চক্র। এসব চক্রের সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে আলাদা বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল পতিত আওয়ামী লীগ আমলে। চক্রের সদস্যদের সরবরাহ করা হতো মাদক ও অস্ত্র। একসময় দলীয় পরিচয়ে মাঠ দাপালেও এখন তারা কৌশল বদল করে বিভিন্ন ব্যানারে করছে নানা অপরাধ। মহানগরের ভদ্রা মোড়, সিঅ্যান্ডবি, লক্ষ্মীপুর, টিকাপাড়া (খুলিপাড়া), কেদুর মোড়, হোসনিগঞ্জ বেতপট্টি, পাঠানপাড়া, কলাবাগান, অলোকার মোড়, নিউমার্কেট, তালাইমারি, বিমানবন্দর সড়ক, গ্রেটার রোড, সিটি বাইপাসসহ বিভিন্ন স্থানে চক্রের সদস্যরা সক্রিয় আছে।
সিলেটে কেউ টমটমচালক : সিলেট থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক ইয়াহইয়া ফজল জানান, সিলেট মহানগরে কিশোর অপরাধীরা আবারও তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা খুঁজছে নতুন আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা। যে কিশোররা আগে আওয়ামী লীগ নেতাদের ছবির সঙ্গে নিজেদের ছবি জুড়ে ব্যানার-ফেস্টুন লাগাত, তারাই এখন অন্যান্য দলের নেতাদের সঙ্গে নিজের ছবি টাঙিয়ে আশ্রয় খোঁজার চেষ্টা করছে। নগরের কুয়ারপাড়ে গেলে এমন ব্যানার-ফেস্টুন চোখে পড়ে। সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) সূত্র জানিয়েছে, নগরের ছয় থানা এলাকায় কিশোর অপরাধী রয়েছে। তাদের অপতৎপরতা থামাতে তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। তালিকার বেশির ভাগেরই বয়স ১৮ বছরের নিচে। কেউ স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েছে, কেউ টমটম চালায়। বেশির ভাগই বস্তির বাসিন্দা।
কক্সবাজারে সক্রিয় শতাধিক চক্র : কক্সবাজার থেকে বিশেষ প্রতিনিধি তোফায়েল আহমদ জানান, দেশের পর্যটন শহর কক্সবাজারে কিশোর অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছেই। এখানে শতাধিক চক্রের বেশির ভাগ সদস্যই রোহিঙ্গা। শুধু শহরের কলাতলী গোলচত্বর (ডলফিন মোড়) স্টেশনেই অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা কিশোর-কিশোরী অবস্থান করে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে দলে দলে এসব কিশোর-কিশোরী এসে জড়িয়ে পড়ছে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে। রাজধানী ঢাকা থেকেও কিশোর অপরাধীরা এই পর্যটন শহরে ভিড় করছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো ইলিয়াস খান বলেন, ‘শহরে রোহিঙ্গা কিশোরদের তৎপরতা বেড়েছে। কয়েক দিন আগে কলাতলী গণপূর্ত পার্ক থেকে ১২ কিশোর অপরাধী আটক করি। তাদের ১০ জনই ছিল রোহিঙ্গা। ’
কুমিল্লায় ২০ চক্র : কুমিল্লা প্রতিনিধি জাহিদ পাটোয়ারী জানান, কুমিল্লা মহানগরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর অপরাধীরা। এখানে আছে তাদের ২০টি চক্র। কয়েক দিন পর পর হঠাৎ প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে তাদের শক্তি ও উপস্থিতি জানান দেয় তারা। আধিপত্য ধরে রাখতে তারা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আট বছরে কিশোর অপরাধীদের হাতে ১২টি খুনের ঘটনা ঘটেছে এখানে।
খুলনার নতুন আপদ : খুলনা অফিস প্রধান এইচ এম আলাউদ্দিন জানান, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জনপদ খুলনায় নতুন আপদ কিশোর অপরাধ। খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) তালিকায় মহানগরের আটটি থানা এলাকায় কিশোর অপরাধী ২০৮ জন। নতুন আরো একটি তালিকা করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগরের টুটপাড়া, লবণচরা, নিরালা, ঘাট এলাকা, রূপসা, জোড়াগেট, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর ও দৌলতপুর এলাকায় কিশোর অপরাধীদের একাধিক গ্রুপ রয়েছে। নগরের বিভিন্ন বালিকা বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজ এলাকায় এসব চক্র সক্রিয় আছে। কেএমপির পক্ষ থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে অবাঞ্ছিতদের প্রবেশ নিষেধ উল্লেখ করা হলেও তা মানছে না তারা।
The post বাড়ছে কিশোর গ্যাং বাড়ছে অপরাধ appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>The post ১৫ বছরে ঋণের নামে লুট হয়েছে পৌনে ২ লাখ কোটি টাকা appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত ১৫ বছরে প্রায় পৌনে ২ লাখ কোটি টাকার মূলধন খেয়ে ফেলেছে লুটেরারা। ২০ ব্যাংক থেকে এই টাকা লুট হয়। ব্যাংক দখল ছাড়াও এরা ঋণের নামে হাতিয়ে নিয়েছে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতি নেওয়ার প্রমাণ উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন। ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশের ২০টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। যা আগের প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ছিল ৫৩ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোতে মূলধন ঘাটতি বেড়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা। তবে কিছু ব্যাংকে উদ্বৃত্ত থাকায় সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতে মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৭ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকায়। যা ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ১০ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ৩৯ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৫২ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঘাটতি ১৮ হাজার ১৯৯ কোটি, ইউনিয়ন ব্যাংকের ঘাটতি ১৫ হাজার ৬৯০ কোটি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতি ১৩ হাজার ৯৯১ কোটি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ঘাটতি ১২ হাজার ৮৮৫ কোটি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতি ১১ হাজার ৭০৯ কোটি, আইএফআইসি ব্যাংকের ঘাটতি ৯ হাজার ২৯ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংকের ঘাটতি ৭ হাজার ৭৯৯ কোটি, রূপালী ব্যাংকের ঘাটতি ৫ হাজার ১৯২ কোটি, পদ্মা ব্যাংকের ঘাটতি ৪ হাজার ৯৮৫ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকের ঘাটতি ৪ হাজার ৬৮৬ কোটি, বেসিক ব্যাংকের ঘাটতি ৩ হাজার ১৫৬ কোটি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতি ২ হাজার ৯০৫ কোটি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ঘাটতি ২ হাজার ৪৭০ কোটি, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ঘাটতি এক হাজার ৯১০ কোটি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ঘাটতি এক হাজার ৮৬২ কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ঘাটতি এক হাজার ৬৫৬ কোটি, এবি ব্যাংকের ঘাটতি ৫১৮ কোটি, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতি ২৫৪ কোটি এবং বিদেশি হাবিব ব্যাংকের ১২ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতের সম্মিলিত মূলধন ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের অনুপাত বা সিআরএআর কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যাংককে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ বা ৫০০ কোটি টাকা (এর মধ্যে যেটি বেশি) মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। কোনো ব্যাংক এ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে তা মূলধন ঘাটতি হিসাবে গণ্য হয়। মূলধনের এ অর্থ ব্যাংক উদ্যোক্তাদের প্রাথমিক বিনিয়োগ এবং ব্যাংকের মুনাফা থেকে সংরক্ষিত হয়। যেসব ব্যাংকের মূলধনে ঘাটতি থাকে, তারা শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে পারে না। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলো প্রায়ই স্থানীয় ব্যাংকের মূলধন পরিস্থিতি যাচাই করে তারপর ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অপর এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। যা ২০২৩ সালের একই সময়ে ছিল এক লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এক লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে। একই সময়ে ঋণ অবলোপন স্থিতি ৮১ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। যা ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল ৭১ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ অবলোপন বেড়েছে ৯ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। এছাড়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন লাখ ৪৫ হাজার ১২২ কোটি টাকা পুনঃতফশিল করেছে ব্যাংকগুলো। এসব কারণে বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে ব্যাংকগুলো।
জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, দেশের আর্থিক খাতে গত ১৫ বছরে পতিত সরকার যে অরাজকতা সৃষ্টি করেছিল, তা অকল্পনীয়। এরই প্রভাবে প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যাংকের অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। বর্তমানে ব্যাংকের সংখ্যা ৬১টি। এর মধ্যে প্রায় ৩০টি ব্যাংক ভালো নেই। লুটপাটের কারণে কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে ব্যাংকগুলো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পর্যন্ত নিয়মিত দিতে পারছে না। অনেক ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না।
The post ১৫ বছরে ঋণের নামে লুট হয়েছে পৌনে ২ লাখ কোটি টাকা appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>The post সীতাকুণ্ডের কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা গুজব appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতে এক কিশোরীকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো গণধর্ষণের অভিযোগ। তবে পুলিশের তদন্ত এবং ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
শনিবার (৮ মার্চ) দুপুরে নবম শ্রেণির ওই কিশোরী তাঁর ভাই, মামাতো ভাই ও এক বন্ধুর সঙ্গে গুলিয়াখালী সৈকতে ঘুরতে যান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একদল যুবক তাঁদের পথরোধ করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এক যুবক আরও তিনজন সহযোগীসহ কিশোরীকে জোরপূর্বক অন্যত্র নিয়ে যেতে চেষ্টা করে।
ভিকটিম জানান, তাঁকে জঙ্গলের গভীরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং তাঁকে উদ্ধার করেন।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মজিবুর রহমান আইন আদালত প্রতিদিনকে জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে। তাঁর ভাই ও বন্ধুকেও উদ্ধার করা হয়। তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ধর্ষণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আমরা মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছি।”
ভিকটিমের মা মর্জিনা বলেন, “আমার মেয়ে ধর্ষিত হয়নি, তবে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। আমরা চাই, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ঘটনার পর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ভিকটিমকে ধর্ষণের কথা বলতে দেখা যায়। তবে পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয়দের তদন্তে জানা যায়, কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক কিশোরীকে এমন বক্তব্য দিতে বাধ্য করেছে।
এ বিষয়ে ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, “গণধর্ষণের ঘটনা ভিত্তিহীন। আমরা সংবাদকর্মীদের সামনে ভিকটিমের বক্তব্য নিয়েছি, যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এরপরও আমরা আইন অনুযায়ী সব ধরনের তদন্ত করছি।”
স্থানীয়দের মতে, গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকরা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের গুজব ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করতে এবং সঠিক তথ্য যাচাই করে প্রচার করার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত চলছে, এবং পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে।
The post সীতাকুণ্ডের কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা গুজব appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>The post সচিবালয়ের অগ্নিকাণ্ডের পর সুপ্রিম কোর্টে নিরাপত্তা ও অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে স্মারক নং- ১১৭৮০-এ, তারিখঃ ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ এবং স্মারক নং- ১১৭৬২-এ, তারিখঃ ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ দুটি পৃথক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ ব্যবস্থা
স্মারক নং- ১১৭৮০-এ জারি করা নির্দেশনায় সুপ্রিম কোর্ট কম্পাউন্ড, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় অগ্নি প্রতিরোধ সুরক্ষা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অগ্নি নির্বাপণ প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা জরুরি।
স্মারকে আরও বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি, বহু আলোচিত মামলার তথ্য এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের সেবা নিশ্চিত করার স্বার্থে অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার
অন্যদিকে, স্মারক নং- ১১৭৬২-এ জারি করা নির্দেশনায় সুপ্রিম কোর্ট কম্পাউন্ড, প্রধান বিচারপতির বাসভবন, বিচারপতিদের বাসভবন, জাজেস কমপ্লেক্স এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।
সচিবালয়ের অগ্নিকাণ্ড ও তার প্রভাব
গত সপ্তাহে সচিবালয়ের একটি ভবনে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথি ধ্বংস হয়েছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে প্রশাসনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভবনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার তাগিদ দেখা দিয়েছে।
প্রশাসনের করণীয়
সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ শুধু বিচার বিভাগের নয়, বরং পুরো প্রশাসনের জন্য একটি সতর্ক বার্তা। আইন শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের স্থাপনাগুলো সুরক্ষিত রাখা জরুরি।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. আজিজ আহমদ ভূঞা বলেন, “আমরা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। এটি শুধু প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির নিশ্চয়তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।”
উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নির্দেশনা
প্রথম স্মারকটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাজ হবে সুপ্রিম কোর্ট কম্পাউন্ডসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান।
দ্বিতীয় স্মারকটি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনারকে পাঠানো হয়েছে। এতে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপ বিচার বিভাগের অমূল্য সম্পদ ও জনগণের ন্যায়বিচার সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
The post সচিবালয়ের অগ্নিকাণ্ডের পর সুপ্রিম কোর্টে নিরাপত্তা ও অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>The post জাতিসংঘের চিঠির জবাবে যা বলল সরকার appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ভোলকার তুর্ককে পাঠানো চিঠিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরকে বাংলাদেশ বিষয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর মন্তব্য করার আহ্বান জানানো হয়।
The post জাতিসংঘের চিঠির জবাবে যা বলল সরকার appeared first on আইন আদালত প্রতিদিন.
]]>