
সরকারি আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বপালনের এক বছর: সাফল্য, ব্যর্থতা ও দায়বদ্ধতার এক আত্মসমালোচনামূলক অধ্যায়
এডভোকেট মোঃ সারোয়ার হোসাইন লাভলু
অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর, চট্টগ্রাম
আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে—রাষ্ট্রের পক্ষে আইন পরিচালনার গুরুদায়িত্ব আমার কাঁধে অর্পিত হয়েছিল। অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সেই দিনটির কথা আজও স্পষ্ট মনে আছে। একদিকে সম্মান, অন্যদিকে ভার। রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় ন্যায় ও ন্যায়বিচারের পাল্লা সমান রাখার যে কঠিন ভারসাম্যের কাজ—তা যে কত জটিল, এই এক বছরে প্রতিটি দিন তা নতুনভাবে বুঝেছি।
এই সময়ের প্রতিটি সকাল শুরু হয়েছে দায়িত্বের ডাক দিয়ে, আর প্রতিটি সন্ধ্যা শেষ হয়েছে আত্মসমালোচনার প্রশ্নে—আজ আমি ন্যায়ের পক্ষে কতটা সঠিক ছিলাম? বিচারপ্রার্থীর মুখে সন্তুষ্টির ছায়া আনতে পেরেছি তো? নাকি কোথাও ব্যস্ততা, প্রথা বা সীমাবদ্ধতার জালে আটকে পড়েছি?
সফলতা ছিল। অনেক মামলায় সঠিক আইনি দিকনির্দেশনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের পক্ষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পেরেছি। আদালতের সম্মানিত বিচারকগণের ন্যায়নিষ্ঠ মনোভাব, বেঞ্চের সহযোগিতা, এবং আইনজীবী সহকর্মীদের আন্তরিক সমর্থন—এই পদে আমার সাফল্যের প্রতিটি পদক্ষেপে অনুপ্রেরণা ও সহায়তা হিসেবে কাজ করেছে।
তবে ব্যর্থতাও ছিল। সব প্রক্রিয়াই আমাদের হাতে সম্পূর্ণ থাকে না। প্রমাণ, সাক্ষ্য, সময় আর প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা অনেক সময় আমাদের ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে। তবুও প্রতিটি ব্যর্থতা আমাকে নতুন শিক্ষা দিয়েছে—কীভাবে আরও প্রস্তুত, আরও ন্যায়পরায়ণ, আরও মানবিক হতে হয়।
এই এক বছরে আমি বুঝেছি—সরকারি আইন কর্মকর্তা হওয়া মানে শুধু মামলার লড়াই নয়; এটি এক অবিরাম জবাবদিহিতার যাত্রা। প্রতিটি মামলার পেছনে থাকে একটি মানবজীবন, একটি পরিবার, একটি সমাজ। সেই সমাজের ন্যায়বোধের প্রতি আমি দায়বদ্ধ।
আগামী দিনে এই দায়বদ্ধতাকে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে বহন করতে চাই। কারণ আমার বিশ্বাস—ন্যায়বিচার কেবল আদালতের রায় নয়, এটি রাষ্ট্রের প্রতি, মানুষের প্রতি, নিজের বিবেকের প্রতিও এক পবিত্র অঙ্গীকার।
এক বছর পূর্তি আমার কাছে কোনো উদযাপন নয়—বরং নতুন করে শুরু করার শপথ।